খেলার বিভাগ > ফুটবল
১০ জনের মোহনবাগানও হারিয়ে দিল মহামেডানকে।
দুই দলেই নেই কোনও বিদেশি ফুটবলার। একঝাঁক ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে দল সাজিয়েছিলেন বাস্তব রায় এবং মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। কিন্তু ৬৫ হাজারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজার পাঁচেক দর্শক একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। কার্যত ফাঁকা রইল গ্যালারি। তবে মোহনবাগানে বিদেশ না থাকলেও, বাস্তব দল নামিয়েছিলেন হেভিওয়েট। শুধু মনবীর সিং এবং শুভাশিস বসু চোটের জন্য ছিলেন না দলে। বাকিরা সকলেই খেলেছেন। তবে ১০ জনের মোহনবাগানের কাছেও ৩-১ গোলে হারল মহামেডান। জয় দিয়ে ডুরান্ড অভিযান শুরু করল সবুজ-মেরুন। অন্যদিকে, মহামেডান এই ম্যাচ হেরে ডুরান্ড থেকে কার্যত বিদায় নিল।
ম্যাচের ১০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় মোহনবাগানের। বাঁদিক থেকে অনিরুদ্ধ থাপার ক্রস ভেসে আসে সুহেল ভাটের লক্ষ্যে। কিন্তু বল ভাটের পায়ে লেগে মহামেডানের ক্রসবারে গিয়ে আটকায়। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের। ম্যাচের বয়স তখন ২১ মিনিট। লিস্টন কোলাসো তিনজনকে কাটিয়ে বল নিয়ে ঢুকতে যান মহামেডান বক্সে। বাধা পান। ফাউল দেন রেফারি। ২৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোল করেন লিস্টন।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে ডানদিক থেকে কিয়ান নাসিরির একটি ক্রসও গিয়ে লাগে পোস্টে। ৩৬ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন থাপা। বল পেয়ে পোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন তিনি। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখেন আপুইয়া। সাদা-কালো ব্রিগেডে তাংভা রগুইয়ের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান তিনি। তাংভাকে হলুদ কার্ড দেখালেও, আপুইয়াকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেন রেফারি। তবে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান।
বিরতির পর ম্যাচের ৪৯ মিনিটে গোল হজম করে মোহনবাগান। ডান দিকে বক্সের বাইরে থেকে লালথানকিমার শট ঝাঁপিয়ে বাঁচান বিশাল কাইথ। কিন্তু ফিরতি বল জালে ঠেলে দেন অ্যাসলে কোলি। সমতায় ফেরে মহামেডান। এই গোলের পরই ১০ জনের মোহনবাগানকে চেপে ধরে সাদা-কালো বাহিনী।
৬২ মিনিটে ম্যাচে ফেরে মোহনবাগান। লিস্টন বল নিয়ে একা ঢুকে যান অনেকটা। সেখান থেকে ডিফেন্সচেরা পাস বাড়ান সুহেল ভাটকে। সুহেলের প্রথম প্রচেষ্টা গোলরক্ষক রুখে দিলেও, ফিরতি বল তাঁর পায়েই এসে পড়ে। জালে জড়াতে এবার আর ভুল করেননি তিনি। তবে এর মিনিট তিনেক পরেই আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন সুহেল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। লিস্টনকে আটকাতে গিয়ে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মিতেই। পেনাল্টি থেকে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লিস্টন।