খেলার বিভাগ > ফুটবল
২-১ গোলে জয়।
ডার্বির আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো বলেছিলেন, ‘আমি জানি মোহনবাগানের দুর্বলতা।’ বল কিক হওয়ার পর থেকেই ম্যাচে তার প্রতিফলন দেখা গেল। যুবভারতীতে জ্বলে উঠল লাল-হলুদ। রবিবার মোহনবাগানকে ২-১ গোলে ছিটকে দিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের হয়ে জোড়া গোল করলেন দিমি।
শুরু থেকেই আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। তবে মাত্র ১৫ মিনিটে পায়ে টান লেগে মাঠ ছাড়েন লাল-হলুদের স্ট্রাইকার হামিদ। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন দিয়ামন্তাকোস। দিমি নামার পরে লাল-হলুদের আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল ফ্রি-কিক পেলেও মিগুয়েল বাইরে মেরে সেই সযোগ নষ্ট করেন। শুরুতে মোহনবাগান অবশ্য সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। বিপিন সিংকে আশিস রায় বক্সে ফাউল করতে পেনাল্টি পায় ব্রুজোর দল। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে দিমি পেনাল্টিতে গোল করে লাল-হলুদকে এগিয়ে দেন। এই গোলের পরে ম্যাচের রাশ ধরার চেষ্টা করে লাল-হলুদ। আরও বেশি আক্রমণ শানিয়েছে ব্রুজোর দল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আপুইয়া চেষ্টা করলেও বাগানের হয়ে সমতা ফেরাতে পারেননি। তবে বিরতির আগে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইস্টবেঙ্গলও। বিরতির সময় এক গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই পাসাংয়ের পরিবর্তে কামিংসকে মাঠে নামালেন বাগান কোচ হোসে মোলিনা। তাতে সবুজ-মেরুনের আক্রমণ কিছুটা বাড়ে। কিন্তু প্রতি-আক্রমণে বিপদে পড়ে বাগান। ম্যাচের ৫২ মিনিটে মিগুয়েল, মহেশের পা ঘুরে গোল করে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে ব্যবধান বাড়ান দিমি। ২-০ হওয়ার পরে কিছুটা হুঁশ ফেরে সবুজ-মেরুনের। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আনোয়র আলি গোললাইন সেফ করেন। আনোয়ার অপ্রতিরোধ্য হয়ে না দাঁড়ালে ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল মোহনবাগানের।
এরপর অবশ্য ব্যবধান কমায় বাগান। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে লিস্টনের কর্নার থেকে থাপা গোল করেন সবুজ-মেরুনের হয়ে। এরপর পরিবর্ত হিসাবে দিমিত্রি পেত্রাতোস মাঠে নামলে আক্রমণ বাড়ে বাগানের। শেষপর্বে দুই দলের ফুটবলাররা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়লে মাঠে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে তা সাময়িক। যদিও সমতা ফেরাতে পারেনি মোলিনার ছেলেরা। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবধানে জিতেই মাঠ ছাড়ে লাল-হলুদ।