• +91 6291642485
  • 6291642485
Banner

খেলার বিভাগ > ফুটবল

কল্যাণের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি বাইচুংয়ের

রীতিমতো তোপ দাগলেন পাহাড়ি বিছে।   

ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের বিরুদ্ধে এর আগেও সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া। শুক্রবার কলকাতা সাংবাদিক ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে রীতিমতো তোপ দাগলেন পাহাড়ি বিছে।   
ভারতীয় ফুটবলের অবনমনের জন্য কল্যাণকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। একরকম বিস্ফোরণ ঘটালেন বাইচুং। ফেডারেশনের অস্বচ্ছতা তুলে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের পারফরম্যান্স নিয়ে বাইচুংয়ের মন্তব্য, ‘ফিফা র্যা ঙ্কিংয়ে ১৩৩ নম্বরে ভারত। অক্টোবরে এশিয়া কাপের যোগ্যতা পর্বের পরের ম্যাচ। যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ আছে এখনও। ২৪ দলের মধ্যে আসা উচিত। ২০১১ সালে আমরা এশিয়ান কাপে খেলেছিলাম। তখন এশিয়ান কাপে ১৬ দল সুযোগ পেত। এখন ২৪ দল খেলবে। তবু এই পারফরম্যান্স! সভাপতি কল্যাণ চৌবে বলেছিলেন, এশিয়ায় প্রথম ১০-এ আসবে ভারত। একটা নির্দিষ্ট প্ল্যানিং প্রফুল প্যাটেলের সময় থেকে শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ তিন বছরে ভারতীয় ফুটবল ক্রমশ পিছিয়েছে। আমাদের রেজাল্ট দরকার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কে রেজাল্ট দেবে? প্লেয়াররা। ভালো মানের ফুটবলার দরকার। ফুটবলার তৈরি না হলে, ফল আসবে না। গ্রাসরুট ডেভলপমেন্ট না করলে রেজাল্ট আসবে না।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালে আমাদের দেশে এশিয়ান কাপ করার ভালো সুযোগ ছিল। কিন্তু আমাদের সভাপতি কল্যাণের জন্য সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে।’ 
তৃণমূল স্তর থেকে ফুটবলার তুলে আনতে হলে রাজ্য সংস্থাগুলোর বরাদ্দ বাড়াতে হবে, পরামর্শ বাইচুংয়ের। তাঁর কথায়, ‘গ্রাসরুট ডেভলপমেন্টের জন্য ফান্ড বাড়ানো দরকার। প্রচুর প্রতিভাবান ফুটবলার রাজ্যের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিতে আসছে। কিন্তু তাদের ধরে রাখতে অ্যাকাডেমিগুলোর পর্যাপ্ত অর্থ নেই। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপে নিজেদের যোগ্যতায় কোয়ালিফাই করা উচিত। যতক্ষণ না তা হবে, ভারতের সিনিয়র দল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই কিভাবে করবে।’ সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রশাসন নিয়েও ক্ষোভে ফুটছেন বাইচুং। ‘এআইএফএফকে স্বচ্ছ হতে হবে। এজিএম, কার্যকরী কমিটির সভা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ হওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টের মামলাও তো লাইভ হয়। কি আলোচনা হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ হোক। ক্ষতি কী! গত তিন বছরে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। এশিয়া কাপ নিয়ে কল্যাণ চৌবে সৌদিতে গিয়ে ওদের সঙ্গে কী ডিল করে এল! এখন ২০৩১ এশিয়া কাপে আয়োজনের কথা বলছে। সৌদির সঙ্গে কী চুক্তি হয়েছে, তদন্ত হওয়া উচিত।’ 
ফেডারেশন সভাপতিকে আক্রমণ করে বাইচুং বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে আমি দেশের অধিনায়কত্ব করেছি। ২০১১ পর্যন্ত খেলেছি জাতীয় দলে। আমি কিন্তু কল্যাণকে খুব বেশি খেলতে দেখিনি জাতীয় দলে। তৃতীয় বা চতুর্থ গোলকিপার হিসাবে থাকত। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলেছে কিনা কে জানে। সরকারের কাছেও মিথ্যা কথা বলেছে। ফেডারেশনের নির্বাচনের সময় আমি বলেছিলাম, কল্যাণ চৌবে কতটা অকার্যকর। খেলার চেয়ে রাজনীতিতে বেশি মন দিয়েছে। রাজনৈতিক দলের ওপরেই বেশি নির্ভর করেছে। প্লেয়ারদের ভোটাধিকার থাকা উচিত। সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলা চলছে। কল্যাণ চৌবে আবার তার বিরুদ্ধে। ফুটবল প্লেয়ারস অ্যাসোসিয়েশন হওয়ার সময় কল্যাণ চৌবে সবার আগে বিরোধিতা করেছিল। পলিটিশিয়ান, ব্যুরোক্রেট, ফুটবলার যেই হোক ফুটবলের উন্নতিতে নজর দেওয়া উচিত।’  জাতীয় দলের ফুটবলার ভাতা নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন পাহাড়ি বিছে। 
তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দলের ফুটবলাররা কিন্তু ক্রিকেটারদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ নয়। তারা ম্যাচ পিছু ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পায়। সেখানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার হয় ফেডারেশনের। জুতো কেনা, গাড়ি কেনা, ১২৭ বার বিমান যাতায়াত করে ফেডারেশন সভাপতি। অলিভার কানকে নিয়ে এসে গোলকিপার অ্যাকাডেমি করার কথা বলে কল্যাণ চৌবে। এক্স কো-তে সেই কথা বলে। এখনও তার দেখা নেই।’
জাতীয় দলের কোচ মানোলো মার্কেজকে নিয়োগের সময়ও টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে কল্যাণ কোনও আলোচনা করেননি বলে দাবি করেছেন বাইচুং। কল্যাণকে সরিয়ে দিলে সমস্যা মিটবে কিনা এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‍‘কল্যাণকে সরিয়ে দিলে ভারতীয় ফুটবল কতটা উন্নতি করতে পারবে সেটা বলতে পারব না। তবে এর থেকে খারাপ আর হবে না।’ দেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলানোর কথা বলেছেন কল্যাণ। এই প্রসঙ্গে বাইচুং বলেন, ‘আমাদের সময়েও স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন চেষ্টা কেরেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলানোর জন্য। কিন্তু তাতে সরকারের অনুমতির প্রশ্ন রয়েছে। কল্যাণ বলছেন ৩২ জন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ফুটবলারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য কতটা ঠিক তা দেখা দরকার।’

     

বিজ্ঞাপন

Goto Top