খেলার বিভাগ > ক্রিকেট
ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট ড্র।
ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল একটাই, টেস্ট ড্র করা। কারণ জয় যে সম্ভব নয়, তা বোঝা গিয়েছিল ম্যাচের চতুর্থ দিনেই। তবে এদিন একেবারে একশোয় একশো পেলেন জাদেজা এবং সুন্দর। শুভমন গিলের সেঞ্চুরির পর শতরান হাঁকালেন রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দরও। রাহুল ফিরলেন ১০ রান আগে। লর্ডসে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও দলকে জেতাতে পারেননি, ম্যাঞ্চেস্টারে ড্র সেই আক্ষেপ ঘুচল জাদেজার। সঙ্গী ছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর।
ম্যাঞ্চেস্টারে চতুর্থ দিনের শেষে কেএল রাহুল অপরাজিত ছিলেন ৮৭ রানে। অন্যদিকে শুভমন গিল অপরাজিত ছিলেন ৭৮ রানে। তবে পঞ্চম দিনে বেন স্টোকসের বলে ৯০ রানে আউট হন রাহুল। তবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক গিল। বেন স্টোকসের একটি বল আচমকা লাফিয়ে গিলের হাতে ও হেলমেটে লাগে। তবু হাল ছাড়েননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২২৮ বলে সেঞ্চুরি করেন গিল। কিন্তু তারপর আর মাত্র তিন রান যোগ করে জোফ্রা আর্চারের বলে আচমকা উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ভারত অধিনায়ক। আসলে অনেকক্ষণ ধরেই শরীরের একটু বাইরে বল করে যাচ্ছিলেন ইংরেজ বোলাররা। বারবার সেই ফাঁদ এড়ালেও শেষরক্ষা হয়নি।
ম্যাঞ্চেস্টারের পিচে কোনও প্রাণ নেই। সকালের দিকে আবহাওয়ার জন্য বল একটু-আধটু সুইং করছিল। সেটুকু সামলানো ছাড়া একমাত্র কাজ ছিল মাথা ঠান্ডা রেখে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। গিল সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন। অধিনায়কের পথে হাঁটলেন ভারতের দুই অলরাউন্ডার। বুঝিয়ে দিলেন কার্স-আর্চারদের বাউন্সারে ভয় পাওয়ার বান্দা তাঁরা নন। প্রয়োজনে ছক্কাও হাঁকালেন সুন্দর। নিজের ইনিংসের প্রথম বলে যেভাবে জীবনদান পেয়েছিলেন, তারপর আর ভুল করেননি জাদেজা। লাঞ্চের পর অতিআক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজানো থেকে জো রুটকে বোলিংয়ে নিয়ে আসা, স্টোকসের কোনও পরিকল্পনাই কাজে লাগেনি। সুন্দরের জন্য বল ভিতর দিকে নিয়ে এসেও সাফল্য পাননি আর্চার। দু’জনেই হাফসেঞ্চুরি করে ইনিংসে হার বাঁচিয়ে ফেলেন। এরপর খেলা শুরু হলে দু’জনেই সেঞ্চুরি হাঁকান। সুন্দর ১০১ এবং জাদেজা ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪২৫/৪ স্কোরে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে।