খেলার বিভাগ > ক্রিকেট
১৫৯ রানে গুটিয়ে গেল প্রোটিয়া বাহিনী।
মঞ্চটা তৈরি ছিল শুভমন গিলের জন্য। গত কয়েকদিন ধরে জার্সি বিক্রির ধরন দেখে অন্তত সেরকমই মনে হচ্ছিল। কিন্তু প্রথম দিন শুভমনের মঞ্চ মাতিয়ে গেলেন জসপ্রীত বুমরা। একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে ছাড়খাড় করে দিলেন বিশ্বসেরাদের।
টসে হারাটা শুভমন গিলের কাছে যেন ভবিতব্য হয়ে গিয়েছে। এদিন হারলেন এবং প্রথম বোলিং পেলেন। তবে টসে জিতলেও, ম্যাচ হয়তো জেতা হবে না টেম্বা বাভুমাদের। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৫ ওভার টিকল টেস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং। ১৫৯ রানে গুটিয়ে গেল প্রোটিয়া বাহিনী।
এডেন মারক্রামের সঙ্গে রায়ান রিকেলটন ইনিংসের শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু দলগত ৫৭ রানের মাথায় ছন্দপতন। বুমরার বলে লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরলেন রিকেলটন। গ্যালারিতে তখন শব্দব্রহ্ম। এরপরই শুরু হয়ে গেল বাকিদের আসা-যাওয়া। কিছুক্ষণ পর ফিরলেন মারক্রামও। তবে তাঁর করা ৩১ রান দলের সর্বোচ্চ। বুমরার হঠাৎ লাফিয়ে আসা বুঝতে পারেননি মারক্রাম। ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় ঋষভ পন্থের বিশ্বস্ত হাতে।
বোলাররা যতই ম্যাচের রাশ নিজেদের দিকে টানুন না কেন, দল নির্বাচন নিয়ে কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই গেল। চার স্পিনার খেলানোর সৌজন্যে বাদ পড়লেন সাই সুদর্শন। ওয়াশিংটন খেললেন তাঁর পরিবর্তে, তাঁর পজিশনে। কিন্তু বল করলেন মাত্র এক ওভার। চতুর্থ স্পিনারকে দিয়ে এক ওভার বল করানোর জন্য একজন স্পেশালস্টি ব্যাটার সুদর্শনকে বসিয়ে রাখা মানতে পারছেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে প্রত্যাশা মতো দুই উইকেটরক্ষক পন্থ এবং ধ্রুব জুরেল খেলছেন এই ম্যাচে।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে আরও একটি উইকেট খোয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক বাভুমা ফিরে যান কুলদীপের বলে। আবার বিরতির পরও প্রথম উইকেটটি নেন কুলদীপই। এবার তাঁর শিকার ওয়েন মুলডার। চায়নাম্যানের ঝুলিতে এদিন দুই উইকেট। এরপরই বুমরা বলে লেগবিফোর হন টনি ডি জর্জি। ট্রিস্টান স্টাবস সবথেকে বেশিক্ষণ টিকলেন ক্রিজে। ৭৪ বলের মোকাবিলা করে তাঁর অবদান ১৫। আসলে অপরাজিত ১৫। তাঁকে আউট করতে পারেননি বুমরা-কুলদীপরা। এমনকী, স্টাবসকে সঙ্গও দিতে পারেননি তাঁর সতীর্থরা। অসহায়ের মতো একটা দিক আগলে দাঁড়িয়ে থাকলেন তিনি। আর দেখলেন দলের ভাঙন।
মহম্মদ সিরাজ এক ওভারে পরপর দুই উইকেট তুলে প্রোটিয়াদের ঠেলে দিলেন খাদের কিনারায়। কাইল ভেরেইনে এবং মার্কো জানসেনের উইকেট নেন তিনি। রবীন্দ্র জাদেজা উইকেট না পেলেও, অক্ষর প্যাটেল কিন্তু করবিন বশকে প্যাভিলিয়নে ফেরান। শেষ দুই উইকেট ফের বুমরার দখলে। তার মধ্যে সাইমন হারমারকে যে বলে বুমরা বোল্ড করলেন, তাতে তাঁর দোষ নেই। বলটি আচমকা নিচু হয়ে যায়। বুমরার এই বল দেখেই ভারতীয় ইনিংস সম্পর্কে তির্যক মন্তব্য শোনা যায় অনেকের মুখেই। শেষে কেশব মহারাজ লেগবিফোর হতেই প্রোটিয়া ইনিংসে ফুলস্টপ পড়ে। এই নিয়ে ১৬তম বার টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন বুমরা।
ভারতের ইনিংসেও শুরুতে ধাক্কা। যশস্বী জয়সওয়াল খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাইশগজে। মার্কো জানসেনের বলে কাট করতে যান তিনি। বল ব্যাটে লেগে ভেঙে দেয় উইকেট। মাত্র ১২ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে। বাকি সময়টা ভালো ভাবেই কাটিয়ে দেন কেএল রাহুল এবং সুন্দর। দিনের শেষে ভারতের স্কোর ৩৭/১। এখনও ১২২ রানে পিছিয়ে টিম ইন্ডিয়া।
শনিবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত চাইবে বড়ো রান তুলতে। আর প্রোটিয়া বাহিনীর নজর থাকবে ঠিক উলটো দিকে। রাহুল-শুভমনদের সঙ্গে লড়াইটা মহারাজ-হারমারদের। কে জিতবেন? উত্তরটা সময়ই বলবে।