খেলার বিভাগ > ক্রিকেট
বিফলে জাদেজার লড়াই, তীরে এসে ডুবল তরী
লর্ডসে প্রচণ্ড গরম। প্রকৃতির জন্য নয়। দু-দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে বেশ কিছু গরম মুহূর্ত। স্লেজিং হবে এটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ড যেন সেটাকেই হাতিয়ার করল। মনসংযোগ দেখাতে ব্যর্থ ভারতীয় ব্যাটাররা। ইউথোনেশিয়াই যেন বলা যায়। অর্থাৎ স্বেচ্ছামৃত্যু। তবে লড়াই করেছেন রবীন্দ্র জাদেজা। একা কুম্ভের মতো লড়েও অবশ্য শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজিক নায়ক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন ক্রিজের একদিকে। আর দেখলেন বুমরা-সিরাজদের যুদ্ধ, তাঁদের অসহায় আত্মসমর্পণ। প্রবল মনস্তাত্তিক ম্যাচে ২২ রানে হেরে গেল টিম ইন্ডিয়া। সিরিজেও পিছিয়ে পড়ল ২-১ ব্যবধানে। বোর্ডে মাত্র ১৯৩ রানের টার্গেট থাকলেও যশস্বী জয়সওয়ালের শট সিলেকশন প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। ম্যাচের শেষ দিন ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৩৫ রান। কিন্তু চা বিরতির পরে ৯ উইকেটে ১৬৩। ভারতের জয়ের জন্য দরকার তখনও ৩০ রান। হাতে মাত্র ১ উইকেট। ইংল্যান্ডের জয়ের পথে বাধা একমাত্র রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি অপরাজিত ছিলেন ৫৬ রানে। সঙ্গী মহম্মদ সিরাজ(২)।
টার্গেট দেখে মনে হয়নি, এই ম্যাচ ভারতের হাতছাড়া হতে পারে। কিন্তু ভারতীয় দল যেভাবে ব্যাটিং করল তাতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। লর্ডসের পিচে প্রথম দিন থেকেই দেখা গিয়েছে মন্থর এবং অসমান বাউন্স রয়েছে। ব্যাটারদের কাজটা কঠিন ছিল। সেটা আরও কঠিন হবে সময়ের সঙ্গে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। ইংল্যান্ডও বাজবল খেলেনি। প্রয়োজন ছিল ধৈর্য ধরে খেলার। সেটাই করেছিল ভারতও। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে অতি আগ্রাসনই যেন অস্বস্তির কারণ হল।
ছোট টার্গেট অনেক সময়ই সমস্যা তৈরি করে। ভারতের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যশস্বীর মতো তরুণ ক্রিকেটার যিনি প্রথমবার ইংল্যান্ডে খেলছেন। শুরুটা করেছিলেন ভালোই। কিন্তু লর্ডসের দ্বিতীয় ইনিংসে পরিস্থিতি যখন ডিমান্ড করে ক্রিজে টিকে থাকার, দায়সারা শট খেলে আউট হন। অভিজ্ঞ করুণ নায়ার যিনি আট বছর পর টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন, কাজে লাগাতে ব্যর্থ। ঋষভ পন্থ এবং লোকেশ রাহুল ফিরতেই যেন ম্যাচ ওভার ভারতের। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে নীতীশ রেড্ডির উইকেট।
লাঞ্চ বিরতির সময় ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। তখন জাদেজার সঙ্গী ছিলেন জসপ্রীত বুমরা। মাত্র ৫ রান করলেও ৫৪টা বল খেলে গিয়েছেন বুমরা। দীর্ঘক্ষণ জাদেজাকে সঙ্গ দিয়েছেন। চা বিরতির কিছুক্ষণ আগে আউট হয়েছেন তিনি। এরপর সিরাজকে সঙ্গে লড়াই চালালেন জাদেজা। যার পরিসমাপ্তি ঘটল ২২ ধাপ দূরে। আঙুলে চোট নিয়েও বাধ্য হয়ে খেলতে নামা শোয়েব বশির সরাজের স্টাম্প উড়িয়ে দেয়। শেষ হয় ভারতের দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই।
এদিকে, লর্ডস টেস্টে এবার বিতর্কে আম্পায়ারিং। বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকত ও অস্ট্রেলিয়ার পল রেইফেল ভারত-ইংল্যান্ডের চতুর্থ টেস্ট পরিচালনা করছেন। তবে মূল আক্রমণটা রেইফেলের দিকেই। সেই আক্রমণে শামিল অনিল কুম্বলে থেকে রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতের প্রাক্তন স্পিনার তো আইসিসি’র দ্বারস্থ হলেন। যার চেয়ারম্যান জয় শাহ। অন্যদিকে সুনীলও গাভাসকর প্রশ্ন তুলছেন ডিআরএস টেকনোলজি নিয়ে।