খেলার বিভাগ > ক্রিকেট
পিচ এখনও পুরোপুরি চিনে উঠতে পারেননি শুভমনরা।
প্রতীক্ষার অবসান। ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্ট। টেস্ট বিশ্বকাপ জেতার পর প্রতিপক্ষ এখন রীতিমতো শক্তিশালী। ভারতকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন টেম্বা বাভুমারা। তবে শুভমন গিলরাও পালটা চাল দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছেন।প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে যেতে মরিয়া টিম ইন্ডিয়া।এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে প্রথম একাদশ এখনও ঠিক করতে পারেননি তাঁরা। কারণ ইডেনের পিচ এখনও পুরোপুরি চিনে উঠতে পারেননি শুভমনরা।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ইডেনের পিচ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভমন বলেছেন, ‘বুধবার এসে দেখেছিলাম অন্য রকম উইকেট। এদিন এসে দেখছি সেটা বদলে গিয়েছে। শুক্রবার এসে আরও এক বার দেখলে বুঝতে পারব। এমনিতেই পিচ দেখে শুকনোই মনে হচ্ছে। এই ধরনের পিচে রিভার্স সুইং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৪-এ ইংল্যান্ড সিরিজ স্পিন সহায়ক পিচ হলেও পেসারেরা উইকেট নিয়েছিল। রিভার্স সুইং হলে পেসারদের কখনওই হিসাবের বাইরে রাখা যাবে না।'
ইডেনে ধ্রুব জুরেল যে খেলবেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। ব্যাটারদের নিয়েও চিন্তা নেই। তবে তিন স্পিনার হিসাবে কাকে কাকে খেলাবেন তা চূড়ান্ত করেননি শুভমন। তাঁর কথায়, ‘বছরের সেই সময়টায় এসে গিয়েছি, যখন একজন অতিরিক্ত পেসার নাকি অতিরিক্ত স্পিনার খেলাব, সেটা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে। সেই জন্যই শুক্রবার এসে পিচ দেখে সিদ্ধান্ত নেব। প্রথম একাদশ মোটামুটি নিশ্চিত। সাধারণত ভারতে স্পিনাররাই ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। যেহেতু ভারতের পূর্ব দিকের এই অঞ্চলে আলো তাড়াতাড়ি কমে যায়, তাই সেগুলোও মাথায় রাখতে হবে। তাছাড়া আমাদের দলে খুব ভালো ভালো ব্যাটিং অলরাউন্ডার রয়েছে। সেটা অক্ষর, ওয়াশিংটন বা জাদেজা যে-ই হোক। ওদের বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের রেকর্ড অসাধারণ। উত্তেজক একটা টেস্ট হতে চলেছে।'
অস্ট্রেলিয়ায় শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার ছ’দিনের মধ্যে লাল বলে খেলতে নামবেন শুভমন। এখনও তিন ফরম্যাটে খেলার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া রপ্ত করতে হচ্ছে তাঁকে। বলেছেন, ‘এখনও ভাবছি কীভাবে মানিয়ে নেব। এশিয়া কাপ থেকে পরের পর খেলে চলেছি। বিভিন্ন দেশে যাচ্ছি। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ফরম্যাটে নামতে হচ্ছে। সব ফরম্যাটে সাফল্য পেতে গেলে কীভাবে নিজেকে ঠিক রাখতে হয়, সেটা জানার জন্য আর একটু সময় দরকার। তবে শরীরের থেকেও মনের চ্যালেঞ্জ বেশি।'
পেসারদের ওয়ার্কলোড প্রসঙ্গে শুভমন বলেছেন, ‘ভারতে খেলার চেয়ে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গেলে জোরে বোলারদের ওপরে চাপ বেশি পড়ে। কিন্তু আমাদের দলের পেসাররা জানে, কীভাবে ভারতের মাটিতে সাফল্য পেতে হয়। যদি পিচ থেকে রিভার্স সুইং পাওয়া যায়, তা হলে ওরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করবে। বুমরা নিজেও জানে যে ভারতের মাটিতে বল করতে গেলে ওর ওপর সেভাবে চাপ পড়বে না। ও সেভাবেই সামলায় ব্যাপারটা।'
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারাতে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ভারত। সেই প্রসঙ্গে শুভমন বলেছেন, ‘এই দুটো ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে গেলে এখানে ভালো খেলতেই হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট বিশ্বকাপ জিতে খেলতে এসেছে। শক্তিশালী দল। তাই লড়াই সহজ হবে না। অনেক কঠিন সময় আসবে। তবে দল হিসাবে একসঙ্গে সেগুলো সামলে দিতে পারব।'
১৩ বছর পর ইডেনের কোনও টেস্ট ম্যাচে ভারতীয় দলে থাকবে না মহম্মদ শামির নাম। ২০১৩-য় টেস্টে অভিষেক হওয়ার পর থেকে ইডেনে হওয়া চারটি টেস্টেই খেলেছিলেন শামি। এই প্রথম ঘরের মাঠে টেস্ট খেলা হবে না তাঁর। প্রথম টেস্টের আগের দিন ভারতীয় দলে শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অধিনায়ক শুভমন গিল। শুভমনের কথায়, ‘শামিভাইয়ের মতো বোলার খুব বেশি নেই। তবে আকাশ দীপ বা প্রসিদ্ধের মতো বোলারদের পারফরম্যান্সের দিকে যদি তাকান, বা সিরাজ বা বুমরা ভারতের হয়ে কেমন খেলেছে সেটা যদি দেখেন, তা হলে বুঝবেন সিদ্ধান্ত কতটা কঠিন। শামিভাইয়ের মতো বোলারকে বাইরে রেখে খেলতে কখনওই ভালো লাগে না। তবে একইসঙ্গে আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে। ফিটনেস এবং নির্বাচন নিয়ে নির্বাচকরা ভালো উত্তর দিতে পারবেন।'