খেলার বিভাগ > ক্রিকেট
লোধার ফাঁসে অনু-মদন।
সিএবির পরবর্তী যুগ্ম সচিব কে হতে পারেন? এই প্রশ্নই এখন সিএবি সরগরম। অমর আকবর অ্যান্টনির মত সিএবিতে কে এগিয়ে যোগ্য সচিব হওয়ার দৌড়ে? অনু? মদন? নাকি শ্রীমন্ত?
বাংলা ক্রিকেট মহলে এখন এদেরকেই বলা হচ্ছে অমর আকবর অ্যান্টনি। যাদের তিন জনেই পাখির চোখের মতো দেখছেন সিএবির যুগ্ম সচিবের চেয়ার। কিন্তু কার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত শিকে ছিড়বে তাই নিয়ে প্রচুর যদি এবং কিন্তু ঘোরাফেরা করছে।
অমর অর্থাৎ অনু ওরফে নীতিশ দত্ত সিএবিকে প্রায় নিজের ঘর বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন। সিএবির কিছু দুষ্টু লোক বলেন, উনি সকাল সকাল চলে এসে খাওয়া দাওয়া সেরে, সিএবিতেই বিশ্রাম নিয়ে ক্রিকেটের নন্দন কাননে ইভিনিং ওয়াকে নিজেকে ফিট রেখে তারপর কাজের সঙ্গে গল্পগুজব (সেটাই নাকি তিনি বেশি করেন খুব রসিক মানুষ) করে বাড়ি ফিরে যান। মদন ঘোষ আবার একটু চুপচাপ। তিনি মওকা বুঝে চার ছক্কা হাঁকাতে ওস্তাদ। কিন্তু আনহোনি কে হোনি করার স্বপ্ন নিয়ে চুপটি করে বসে বাকিদের মাপছেন শ্রীমন্ত মল্লিক। কারণ দৌড়ে তিনি এখনও পর্যন্ত এগিয়ে।
কেন? কারণ নীতিশ ওরফে অনু দত্তের বয়স এখন ৬৯। মদন ঘোষেরও প্রায় তাই। সেপ্টেম্বর মাসে যখন এজিএম হবে সিএবিতে তখন অনু দত্তের সত্তর হতে বাকি থাকবে মোটে চার মাস। আর মদন ঘোষের বাকি থাকবে দশ মাস। আর এখানেই পরিস্থিতি দেখে মিটিমিটি হাসছেন শ্রীমন্ত। ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি তিনি বলে বেরিয়েছেন লোধা কমিটির নির্দেশ মেনে যখন এবারের এজিএম হবে তখন সত্তরের গেরো পার হয়ে যুগ্ম সচিব হতে পারবেন না অনু এবং মদন। কথাটা যে তিনি ভুল বলছেন তা নয়। কারণ সিএবি র অমর-আকবর-অ্যান্টনির যুগ্ম সচিবের কুরসি দখলের দৌড়ে অমর ওরফে নীতিশ ওরফে অনু এবং আকবর ওরফে মদনকে এই জায়গাতেই পিছিয়ে দিয়ে যুগ্ম সচিবের চেয়ারে বসতে অনেকটা এগিয়ে শ্রীমন্ত। তাই তিনি সিএবিতে চিন্তা মুক্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছেন। শোনা যায় সিএবি কর্তারা তার কাজেও খুশি। কাজেই অ্যান্টনি ওরফে শ্রীমন্তর মুখের হাসি তো চওড়া হবেই। শ্রীমন্ত মল্লিকের কাজে খুশি অনেকেই। তাই সিএবির যুগ্ম সচিব হওয়া নাকি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র শ্রীমন্তর কাছে। সিএবির অনেকেই চাইছেন শ্রীমন্তকে এই গুরুদায়িত্বভার দিতে। শোনা যাচ্ছে, শ্রীমন্ত গত তিন বছর ধরে খুব ভালো কাজ করছেন। তাই সিএবির অনেকেই শ্রীমন্তবাবুকে যুগ্ম সচিব পদে বসাতে চাইছেন। সাম্প্রতিক কালে ইডেনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা ঘরোয়া ম্যাচ বা আইপিএল ম্যাচ আয়োজনে শ্রীমন্ত মল্লিক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রাণপাত পরিশ্রম করেছেন। সেই কারণে তাঁর অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী যারা সিএবিতে রয়েছেন তাদেরকে পিছনে ফেলে এই মুহূর্তে অনেকটা কর্তাদের সুনজরে রয়েছেন শ্রীমন্ত। কারণ বয়সের গেঁড়ো তাকে ছুতে পারেনি। সেই কারণে অনু, মদনের যুগ্ম সচিব এর স্বপ্ন ক্রমে দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে সুপ্রিমকোর্ট নিযুক্ত লোধা কমিটির সুপারিশে। সিএবি-তে তাই লোধা নিয়ে আলোচনা হলেই যখন নিতিশ ওরফে অনুর এবং মদনের মুখে একরাশ চিন্তা তখন যত এজিএম এগিয়ে আসছে তত মুখ আলো করা হাসি দেখা যাচ্ছে শ্রীমন্তর মুখে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিছনে ফেলে লাইট হাউজের মত তিনি দেখে নিতে পারছেন সিএবির যুগ্ম সচিবের চেয়ার।