• +91 6291642485
  • 6291642485
Banner

খেলার বিভাগ > ক্রিকেট

কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ল স্নেহাশিসের কাছে

দুর্নীতির পাহাড় সিএবি। 

বঙ্গ ক্রিকেটে দুর্নীতির পাহাড়। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে মুখ পুড়ছে সিএবির। এবার সিএবির এক কমিটি সদস্যের বিরুদ্ধেই সেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সদস্যের নাম অম্বরীশ মিত্র। তিনি সিএবি- স্টেডিয়াম কমিটির সদস্য এবং বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের কমিটি মেম্বার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে সিএবিতেই। যে অভিযোগ বলছে, বিভিন্ন ক্লাবে খেলিয়ে দেওয়ার নাম করে উঠতি ক্রিকেটারদের থেকে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন। অভিযোগকারী সুমন কীর্তনিয়া নামে এক আইনজীবী। পাঁচ পাতার সেই অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

সিএবির সঙ্গে যুক্ত অনেকের মতে অবশ্য, এর সঙ্গে সংস্থার আসন্ন নির্বাচনের যোগসূত্র রয়েছে। ময়দানের এক ক্লাবকর্তার বক্তব্য, নির্বাচনে দুই প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বনাম অভিষেক ডালমিয়ার লড়াইয়ের সম্ভাবনা। সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এখন সিএবির সভাপতি। শাসক গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে নানা ভাবে ঘুঁটি সাজাচ্ছে। এই অভিযোগ তারই একটি। অম্বরীশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস এবং সচিব নরেশ ওঝার কাছে। আলিপুর কোর্টের আইনজীবী সুমন অভিযোগের প্রতিলিপি দিয়েছেন সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যদেরও। যেহেতু অম্বরীশ ইস্টার্ন রেলের শিয়ালদা শাখায় কর্মরত, তাই তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে রেলের জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কাছেও। অম্বরীশ ইস্টার্ন রেলেরই অন্যতম ক্লাব নেতাজি সুভাষ ইন্সটিটিউটের প্রতিনিধিত্ব করেন সিএবি-তে।

অম্বরীশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে তার মধ্যে প্রধান হল উঠতি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে টাকা তোলা। প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের প্রতিলিপি অভিযোগপত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যে সব খুদে ক্রিকেটার সিএবি- বিভিন্ন ক্লাবে খেলার স্বপ্ন দেখছে, তাদের খুঁজে বার করে টাকা তুলেছেন অম্বরীশ। অভিযোগ, উঠতি ক্রিকেটারদের কোনও না কোনও ক্লাবে খেলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এছাড়াও নতুন ক্লাব তৈরির নাম করে বিভিন্ন লোকের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নিজেকে প্রভাবশালী নির্বাচক হিসাবে পরিচয় দিয়ে এবং সিএবি- পদের অপব্যবহার করে অম্বরীশ অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৮ দল এবং দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব দলে ক্রিকেটার ঢুকিয়েছেন অর্থের বিনিময়ে, এই অভিযোগও করেছেন সুমন। হাই কোর্ট ক্রিকেট ক্লাবে নানা বেআইনি কাজ করার পাশাপাশি কোথায় কোন ম্যাচ হবে, তাও টাকার বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রভাবশালী লোককে নিয়ে তাঁর একটি চক্র এই কাজ করে। এখানে টাউন ক্লাবের সচিব দেবনিক দাসের নামও এসেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দেবনিকের নাম দেখা যাচ্ছে। একাধিক জাল নথি তৈরি করাতেও অভিযুক্ত তিনি।

অম্বরীশ অবশ্য সব অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এমনকী, সিএবিতে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই খবরও তাঁর কাছে নেই। তিনি বলেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ সিএবি-তে জমা পড়েছে বলে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। এটুকু বলতে পারি, আমি কোনও দিন কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই।দেবনিক জানিয়েছেন, তাঁর এখনই এই ব্যাপারে কিছু বলার নেই। অভিযোগকারী আইনজীবী সুমনের বক্তব্য, তিনি বাংলার ক্রিকেটের একশুভানুধ্যায়ীহিসাবে এই দুর্নীতির কথা সিএবি- গোচরে আনার চেষ্টা করেছেন। রেলের আধিকারিকদেরও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘দু’-এক সপ্তাহ দেখি, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।

অম্বরীশ না জানলেও সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। স্নেহাশিসের কথায়, ‘আমরা নিজেদের মতো কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিচারপতি লোঢা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা এই অভিযোগ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের কাছে পাঠাব। অ্যাপেক্স কাউন্সিল যাবতীয় তথ্য এবং নথি খতিয়ে দেখবে। তারপর তারা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে।

ময়দানের একাংশ এটিকে সিএবি নির্বাচনের আগেকৌশলবলে মনে করলেও সিএবি- একাংশের বক্তব্য, এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসতই। এর সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। বাংলার ক্রিকেটে এমনবেআইনিকাজকর্ম দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে। সিএবি- এক কমিটি সদস্যের কথায়, ‘এর সঙ্গে নির্বাচনের যোগ খোঁজা ঠিক হবে না। এই অভিযোগ তো নতুন কিছু নয়। হয়তো সরকারি ভাবে এত দিন সিএবি-তে অভিযোগ জমা পড়েনি। কিন্তু আজ নয় কাল এই সব বেআইনি কাজ প্রকাশ্যে আসতই। যে সময়ে সিএবি-তে অভিযোগ জমা পড়ল, সেটা হয়তো সংস্থার এজিএম-এর আগে। কিন্তু আমার মতে এটা কাকতালীয়।

শোনা যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে মোহনবাগানের নির্বাচনের মতো সিএবি- নির্বাচনও না হতে পারে। মোহনবাগানের নির্বাচন নিয়ে অনেকের বক্তব্য ছিল, রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের পরামর্শেই যুযুধান দুই পক্ষ সৃঞ্জয় বসু দেবাশিস দত্তের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। সেইসমঝোতাঅনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সৃঞ্জয় সচিব এবং দেবাশিস সভাপতি হয়েছেন। সিএবি- ক্ষেত্রেও এই ধরনে সমঝোতা একেবারে অপ্রত্যাশিত নয় বলে অনেকে মনে করছেন।

     

বিজ্ঞাপন

Goto Top